জেলা এনসিপি আমার জন্য কিছুই করেনি, কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদের এমন কথায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম রশীদ আলী।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত ১০টায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ সম্পর্কে তিক্ত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার কথায় স্পষ্ট বোঝা যায় ড. আতিক মুজাহিদ কর্মী বান্ধব নন।

তিনি এমপি হওয়ার পর সংগঠনের কাউকে মূল্যায়ন করেননা। তিনি স্বেচ্ছাচারী মনোবৃত্তি আর ভুল পদ্ধতিতে সংগঠন অপারেট করছেন। তিনি জন প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ব্যর্থ। মোড়ে মোড়ে মোবাইল নম্বর টাঙানোর কথা বললেও মূলত তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ফোন পিক করেন না। ড. আতিক মুজাহিদের গঠিত কুড়িগ্রাম পার্লামেন্ট নিয়েও যুবশক্তির সাবেক এই নেতা তীর্যক মন্তব্য করেন।

যুবশক্তির সাবেক এই নেতার আশঙ্কা, গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এই সংগঠনটি কুড়িগ্রামে জন আস্থা হারাবে এবং ভবিষ্যতে বিপদের সম্মুখীন হবে। তাই মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগফল শূন্যের কোঠায় ঠেকবার আগে তিনি নিজেকে দল থেকে সরিয়ে নেন।
তবে জেলা এনসিপির দায়িত্বশীল দুই এক নেতা ক্ষমতাসীন দলের সাথে মিলেমিশে বিভিন্ন অফিস আদালত ভাগবাটোয়ারা ও দুর্নীতির সাথে জড়িত বলেও তার মন্তব্যে উঠে আসে। মূলত তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ও সজাগ হওয়ায় তার সাথে নতুন সংগঠনটির অমিল খুঁজে পাচ্ছেন।

তবে এসব মন্তব্যের পরেও তিনি জনগণের সাথে মিলেমিশে থাকতে চান। তিনি স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে নিজেকে মেলে ধরে আগামীতে জেলা পরিষদের কোন দায়িত্বশীল পদে নিজেকে আবির্ভূত করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।
তিনি বলেন, আমরাই ড. আতিক মুজাহিদের জন্য অঢেল পরিশ্রম করে তাকে এমপি নির্বাচিত করেছি। তার জন্য মানুষের দাঁড়ে দাঁড়ে গিয়েছি। মানুষ আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর অনেক ত্যাগ রয়েছে তাঁকে নির্বাচিত করার পিছনে। এখন তিনি এমপি, এসব ভুলে যাবেন স্বাভাবিক।

পরিশেষে তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে আমার এনসিপির রাজনীতি আসা, আমি সে প্রত্যাশা প্রতিফলন দেখতে পাইনি। আমি ভুল করেছি, আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।