মিশরের প্রথম গোলটি আসে ম্যাচের ১৫তম মিনিটে। মিশর ডান দিক থেকে একটি ফ্রি-কিক/সেট-পিস আদায় করে।
মোহাম্মেদ সালাহ নিখুঁতভাবে বলটি পেনাল্টি বক্সে ভাসিয়ে দেন। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে ইয়াসের ইব্রাহিম দারুণ একটি হেড করেন। বলটি সরাসরি জালে জড়িয়ে যায় এবং মিশর ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
মিশরের ১ম গোলে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের চেয়েও বেশি মাথা খারাপ হয় রেফারির। স্কোপ খুঁজেন কিভাবে আর্জেন্টিনাকে একটা পেনাল্টি উপহার দেয়া যায়। সেই স্কোপও আসে খেলার প্রথমার্ধে যখন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো বক্সের ভিতরে উল্টে পড়েন। এটাকে ফাউল টার্গেট করেন রেফারি। পেনাল্টি পান আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি নিতে আসেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মেসির শট মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর দারুণভাবে সেভ করেন।
এই ঘটনায় মিশরের গোল রক্ষক মোস্তফা শোবেইরের গোলকিপিং আর মেসির ফ্রি-কিক সরাসরি ঠেকিয়ে দেওয়ায় মেসি, রেফারিসহ আর্জেন্টিনার পুরো টিমের মাথা খারাপ।
রেফারি ও VAR (ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারি) দুজন মিলেই চিন্তা করেন এই ম্যাচ কোনভাবে সমতায় নিয়ে পেনাল্টিতে যাওয়া যাবেনা। পেনাল্টি নিলে মিশরের গোল কিপার মোস্তফা শোবেইরের কাছে ধরাশায়ী হবেন গতবারের গোল্ডেন গ্লাভস বিজয়ী আর্জেন্টাইন গোল কিপার ইমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তাই শুরু হয় নতুন কৌশল, নতুন কারসাজি।
অপরদিকে থেমে নেই মিশরের দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক।আক্রমণের শুরুতে মিডফিল্ডে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে চাপ দেন। রেফারি তখন খেলা থামাননি এবং অ্যাডভান্টেজ দেন। কয়েক সেকেন্ড পরে বল দ্রুত সামনে গিয়ে মোহাম্মদ সালাহর মাধ্যমে মোস্তফা জিকোর কাছে পৌঁছায়। জিকো গোল করেন এবং মিশর ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওযায় সবাই গোল উদযাপন শুরু করেন। টিভি ডিসপ্লেতে গোল শো করে।
এইবার রেফারি “ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ার” কঠিন চক্রান্ত শুরু, এই গোল মেনে নিলে আর্জেন্টিনার কোমর সোজা করে দাঁড়ানো কঠিন, তাই তিনি VAR (ভিডিও এ্যাসিসটেন্ট রেফারি) এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন । ভিডিও দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত দেন যে আক্রমণের শুরুতে আতিয়ার ফাউল হয়েছিল। তাই পুরো আক্রমণটি বাতিল করে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা করেন রেফারি।
রেফারির এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, কারণ গোলের প্রায় ২০ সেকেন্ড আগে এবং মাঠের অনেক দূরে আর্জেন্টিনা খেলোয়ার দৌড়ের সমতায় উল্টে পড়ে। এটাকে ফাউল ধরে রেফারি একটি দুর্দান্ত গোল বাতিল করেন। যদি ফাউল হয় তবে যখন হয়েছে তখন ধরা হয়নি কেন? ২০ সেকেন্ড পর যখন গোল দিলো মিশর, তখন কেন? মূলত মিশরকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য রেফারির এই কারসাজি।
এরপরও মিশরের মিশন থেমে নেই। আবার মিশরের তৃতীয় গোল যেটিকে (২য় হিসেবে ধরা হলো) আসে ৬৭তম মিনিটে। আর্জেন্টিনার আক্রমণ ভেস্তে যাওয়ার পর মিশর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করে। মোহাম্মেদ সালাহ মাঝ মাঠ থেকে দারুণ একটি থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন।
মোস্তাফা জিকো ডিফেন্ডারদের পেছনে দৌড়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের সামনে শান্তভাবে শট নেন।
বল জালে জড়িয়ে যায় এবং মিশর ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। যেটা আসলে হওয়ার কথা ছিল ৩-০ গোল।
এরপর খেলার শেষার্ধের ১৫ মিনিটে আর্জেন্টিনা ৩টি গোল করে। যার শেষ গোলটি ছিল একেবারে অবৈধ।
আর্জেন্টিনার ৩য় জয়সূচক গোলের আগে মিশরের দাবি ছিল, মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। সালাহকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায়, রিভিওতে স্পষ্ট হয় এটি ফাউল। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যান এবং আর্জেন্টিনাকে জেতাতে এবার VAR ( ভিডিও এ্যাসিসটেন্ট রেফারি) কোন হস্তক্ষেপও করেনি। মিশরের খেলোয়ারগণ ও কোচ হোসাম হাসান এর তীব্র প্রতিবাদ করেন।
মিশরের ২য় গোলের সময় ফাউল ধরা হলে আর্জেন্টিনার সময় গোল ধরা হয় কিভাবে? এ নিয়ে দর্শকদের মাঝেও ছিল চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ।
রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় মিশরের প্রধান কোচ “হোসাম হাসান” কে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এছাড়াও মিশরের কোচিং স্টাফের একজন কোল কিপিং কোচ “সাফান আল সাগহেইর” রেফারির এই মনগড়া সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করায় তাকেও লাল কার্ড দেখান রেফারি।
এভাবে চক্রান্তের বেড়াজালে মুসলিম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ মঞ্চে টিকে থাকায় মিশরের অপ্রত্যাশিত পরাজয় ঘটানো হয় নানা অপকৌশলে। যা ফিফার জন্য লজ্জাজনক ও কলঙ্কময়।
একজন নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে প্রতিবাদ জানালাম। পারলে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে এই ম্যাচ বাতিল করে, পুনরায় আর্জেন্টিনা-মিশরের খেলা হোক। আর পক্ষপাতিত্বের কারণে উপযুক্ত বিচারের আওতায় আনা হোক ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারি “ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ার” ও ভুল সিদ্ধান্ত দেয়া VAR এর দায়িত্বপ্রাপ্ত রেফারির।
লেখক : রাশেদুজ্জামান তাওহীদ
একজন নিরপেক্ষ দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মী
rzamantawhid06@gmail.com